প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী তাহসিন আব্দুল্লাহ, যে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় বড় বোনকে হারানোর পর দীর্ঘদিন হাসি ভুলে গিয়েছিল। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির।
গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দিকে দু'হাত বাড়িয়ে হাসিমাখা মুখে তাকিয়ে থাকা তাহসিনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তাহসিন তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারায়। দুর্ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বোনকে হারানোর পর তার স্বাভাবিক হাসি প্রায় হারিয়ে যায়।
ছবিটির পেছনের এই হৃদয়স্পর্শী গল্প জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শখ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তার স্বপ্নের প্রশংসা করে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, নিয়মিত খেলাধুলা এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। ফুটবলপ্রেমী তাহসিনকে তিনি নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার দেন।
সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করার সুযোগ পেয়ে সে খুবই আনন্দিত। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার অপেক্ষায় রয়েছে সে।
এ সময় মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।