প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া দালালচক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের যৌথ আয়োজনে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে বাস্তবায়নের হার সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ অব্যয়িত ছিল। গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা। এছাড়া সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবাস্তব যোগ্যতার শর্ত আরোপ করে প্রতিযোগিতা সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় কেনা হলেও সেগুলো স্থাপনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত ছিল না। একইভাবে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই বিভিন্ন হাসপাতালে এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো, কমিশনভিত্তিক টেস্ট বাণিজ্য এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস সেবায় একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আগামী তিন মাসের মধ্যে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট, স্মার্টফোন ও সাইকেল দেওয়া হবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। এ ছাড়া অডিটের নামে ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন রোধে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
জ/উ