প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪২ পিএম

২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে স্প্যানিশ লা লিগায় চালু হচ্ছে বহুল আলোচিত ‘ভিনি জুনিয়র আইন’। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা যে কঠোর নিয়ম কার্যকর করেছিল, তা হুবহু অনুসরণ করছে না স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ। বরং নিজেদের ব্যাখ্যা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে কিছুটা নমনীয়ভাবে নতুন নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে।
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) টেকনিক্যাল কমিটি অব রেফারিজ জানিয়েছে, নতুন মৌসুমে খেলোয়াড়দের মাঠের কথোপকথন আরও স্বচ্ছ করা এবং বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর মন্তব্যের তদন্ত সহজ করাই এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
ফিফার বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ বা ম্যাচ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে শাস্তির বিধান ছিল। তবে লা লিগায় রেফারিরা কেবল তখনই হলুদ কার্ড দেখাবেন, যখন কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা প্রতিপক্ষ দলের বেঞ্চের সদস্যের সঙ্গে কথা বলা বা অভিযোগ করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে রাখবেন।
এই নিয়মটি আলোচনায় আসে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার মধ্যকার একটি উত্তপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের পর। ওই ম্যাচে রিয়ালের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি ঘটনাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। এরপর থেকেই নিয়মটি ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিতি পায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই নিয়মের আওতায় প্রথম লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। একই কারণে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়েও শাস্তির মুখে পড়েছিলেন।
স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের মতে, খেলোয়াড়রা মুখ না ঢেকে কথা বললে সম্প্রচার এবং ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে লিপ রিডিং বা ঠোঁটের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক কিংবা আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ আরও নির্ভুলভাবে তদন্ত করা সম্ভব হবে।
তবে ফিফার মতো কঠোর অবস্থান না নিয়ে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তুলনামূলক নমনীয়ভাবেই ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লা লিগা। এতে খেলোয়াড়দের আচরণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
জ/শা