প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম একটি বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে তাদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে দেশের জনগণ। তবে সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা, যারা আইন অনুযায়ী এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জনগণের আস্থা অর্জন করে কাজ করবে।
তিনি বলেন, সরকার ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ বা পুরস্কার ও শাস্তির নীতিতে বিশ্বাস করে। ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে।
টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান ও তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে জনগণই যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখা ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট দাখিল, দৌলতদিয়া ঘাটে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রায় ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষায় ভূমিকা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যা মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং জনগণের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নে আরও উৎসাহ জোগাবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে বিশ্বাসী এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
জ/উ