প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ক এক সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফাদার প্যাট্রিক গ্যাফনি। তিনি স্বাগত বক্তব্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ারকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় তুলে ধরে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে এ বিষয়ে অধিকতর সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং Johns Hopkins School of Medicine-এর গবেষক-চিকিৎসক ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন।
অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার কেবল একটি চিকিৎসা-পদ্ধতি নয়, এটি মানবিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।’
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের পরিসর এখনো সীমিত। শিক্ষার্থীরাই পরিবার ও সমাজে সহমর্মিতাভিত্তিক সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মত দেন।
অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া প্যালিয়েটিভ কেয়ারে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা সচেতনতা সৃষ্টি, সহানুভূতিশীল আচরণ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এ সেবাকে বিস্তৃত করতে পারে।
ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সহমর্মিতা, সম্মান ও মানসিক সমর্থন জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা মানুষের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্র-শিক্ষক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে জানার আগ্রহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্রাদার সুবল রোজারিও। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ক ক্লাব কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাব কার্যক্রমে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হওয়ায় আয়োজনটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিণতি পায়।
জ/উ