প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করায় ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা দ্রুত ও সহজে পরিশোধ করা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রদানে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুন মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত অনেক শিক্ষক বেতন পাননি, ফলে কেউ কেউ পারিবারিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। তবে সে সময় প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বেতন-ভাতা পরিশোধ প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার প্রকল্পটি সংশোধন করে গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে ইএফটি কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে বেতন-ভাতা সরাসরি সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, আগে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। বাকি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বেতন প্রক্রিয়াকরণ হওয়ায় প্রতি মাসে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ইএফটি ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিদ্যমান জটিলতা দূর হবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।
জ/উ