প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং চা শিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ উপজেলার চা বাগানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে চায়ের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাগান মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে চা শিল্পে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩-৪ দিন ধরে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি, লস্করপুরসহ বিভিন্ন বাগানে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, কোনো কোনো দিন এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। একই অবস্থায় পার্শ্ববর্তী মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া, সুরমা চা বাগান। এতে কারখানায় জমিয়ে রাখা কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ উইদারিং, রোলিং ও ড্রায়িং যথাসময়ে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় সংগ্রহ করা কাঁচা চা পাতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চা পাতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করা জরুরি। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে পাতার গুণগত মান নষ্ট হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদিত চায়ের মান কমে যাচ্ছে। এতে বাজারমূল্যও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক বাগান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কাঁচা পাতা ফেলে দিচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
লস্করপুর ভ্যালির বড় বাবু চঞ্চল কুমার দাশ বলেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে অনেক সময় বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালানো সম্ভব হয় না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে চা শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। এবিষয়ে চুনারুঘাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের (ডিজিএম) মোঃ মনজুরুল আলম বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।