
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতাল দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা ও সেবায় ঢামেকের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ও আহতদের চিকিৎসা ও সেবায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হলো চিকিৎসক। রোগী ও তার পরিবারের পাশে থেকে মানবিক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার মায়ের চিকিৎসায় দেশের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীদের সেবার মান বাড়াতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন পদের শূন্যতা দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবা জোরদারে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাস করলেও সেখানে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনও সীমিত। তাই উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, যার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আস্থাশীল করে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জ/উ