
চিত্রনায়িকা পরীমনি চার বছর আগে নিজের গ্রেপ্তার ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার সম্মান ও ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে পরীমনি লেখেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ের ঘটনাগুলো তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং আজও তিনি এর মানসিক অভিঘাত বহন করছেন।
সম্প্রতি র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার একটি অনলাইন টকশোর বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পরীমনি বলেন, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনার কিছু দিক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, গ্রেপ্তারের পর তার সম্মান, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, যা তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। রাষ্ট্রের কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।
পরীমনি জানান, তিনি প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। ভবিষ্যতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেটিই তার কামনা। একই সঙ্গে তিনি অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে সন্তান, পরিবার, অভিনয়জীবন এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে র্যাব পরীমনিকে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। আদালতে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে একই বছরে ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অন্যদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনির বিরুদ্ধেও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, সেটিও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জ/উ