
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং অর্থনীতিবিদদের একাংশ। তাদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে না, যদি না বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রভাবও বাজারে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার ঘোষণা বেসরকারি খাতের অনেক কর্মজীবীর মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীরের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এদিকে জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। যদিও সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবুও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য এখনো বড় চাপ হয়ে রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মুরগির মাংস, সবজি ও মাছের দাম তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়ে যাওয়া অনেক পণ্যের দাম এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।
মালিবাগ কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. হাসনাত বলেন, বর্তমান আয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে আগের তুলনায় অনেক হিসাব করে বাজার করতে হচ্ছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেলেও সাধারণ জনগণের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি আরও জোরদারের পরামর্শ দেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে। বাজার তদারকি আরও জোরদার হলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এক শ্রেণির মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সহায়ক নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জ/উ