নতুন পাসপোর্টে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ: যা জানা জরুরি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ২:৪৮ পিএম

বিদেশ ভ্রমণ সবসময়ই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। নতুন দেশ, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ যেমন থাকে, তেমনি প্রথমবার পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণে অনেকেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার গল্পের কারণে অনেকে অস্বস্তিতে পড়েন। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে এই যাত্রা হতে পারে সহজ, স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলামুক্ত।

ইমিগ্রেশনের সময় যেসব কাগজপত্র সঙ্গে রাখবেন
নতুন পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সাধারণত ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা সম্পর্কে কিছু বাড়তি প্রশ্ন করতে পারেন। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। ই-ভিসা থাকলে তার প্রিন্ট কপি অন্তত দুই-তিনটি সঙ্গে রাখুন। মোবাইলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করাই ভালো। যাওয়া ও ফেরার কনফার্ম রিটার্ন টিকিট অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। একই এয়ারলাইনসে টিকিট থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হয়। হোটেল বুকিং থাকলে তার প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখুন। আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় থাকলে তার পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর লিখে রাখুন, যাতে প্রয়োজনে তা দেখানো যায়। ভ্রমণকালের জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহন করুন। এটি আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

পেশাগত পরিচয় স্পষ্ট রাখা গুরুত্বপূর্ণ
ইমিগ্রেশনে আপনার পেশা বা অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে। তাই প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা ভালো- ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের কপি। চাকরিজীবী হলে অফিসের অনাপত্তিপত্র (NOC)। শিক্ষার্থী হলে স্টুডেন্ট আইডি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র। অনেকে নিজের কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবি মোবাইলে রাখেন, যা প্রয়োজনে সহায়ক হতে পারে।

ইমিগ্রেশনে আচরণ কেমন হওয়া উচিত
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সঙ্গে ভদ্র, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী আচরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের উত্তর সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও সত্যভিত্তিক হওয়া উচিত। উত্তেজিত হওয়া বা তর্কে জড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে।

ব্যাগ গোছানোর সময় খেয়াল রাখবেন
আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সাধারণত তিন ধরনের ব্যাগ থাকে-চেক-ইন লাগেজ, হ্যান্ড ক্যারি এবং ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ। প্রতিটি এয়ারলাইনসের লাগেজ ওজন সীমা আলাদা হয়, তাই টিকিট বুকিংয়ের সময় এটি জেনে নেওয়া ভালো। হ্যান্ড ব্যাগে ধারালো বা দাহ্য বস্তু যেমন কাঁচি, ছুরি, লাইটার রাখা যাবে না। এসব অবশ্যই চেক-ইন লাগেজে রাখতে হবে। ভ্রমণের আগে ব্যাগের ওজন মেপে নিলে অতিরিক্ত চার্জ এড়ানো যায়। এছাড়া যাত্রার আগে টিকিটের তথ্য আবার যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় ও স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত। ভ্রমণের আগে হালকা খাবার গ্রহণ করা ভালো এবং এমন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যা দীর্ঘ যাত্রায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

শেষ কথা
প্রথম বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক কাগজপত্র, সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসী আচরণ-এই তিনটি বিষয় ঠিক থাকলে যাত্রা হবে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ। ভ্রমণের আসল প্রস্তুতি শুধু কাগজপত্র নয়, বরং মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft