ঝিকরগাছায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা, পুলিশের নীরবতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল

যশোরের ঝিকরগাছার নাভারণে সক্রিয় হয়ে উঠছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নতুন সরকার গঠনের পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন দলটির পলাতক নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।
নতুন সরকার গঠনের পর এলাকায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বেশ কয়েকজন নেতা। তারা হলেন- ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাশেম শিকদার, আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও চোর-ডাকাতের সর্দার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াসিন শিকদার, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাশকতা মামলার আসামি ইমরান শিকদার, নাভারণ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রবি শিকদার ও আওয়ামী লীগ ক্যাডার আলাল উদ্দিনসহ আরও নেতাকর্মী। গত ৫ আগস্টের পর পলাতক থাকা এসব নেতাকর্মীরা নাভারণের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে এসে অবস্থান করছেন। এরা সবাই অস্ত্রধারী ক্যাডার।
কাশেম শিকদার ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের মৃত-হাকিম শিকদারের ছেলে। আবুল কালাম একই গ্রামের মৃত-আব্দুল মুজিদের ছেলে। বাকী সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাশেম শিকদার ও আবুল কালামের ক্ষমতার প্রধান উৎস ছিলেন ঝিকরগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। সাবেক এই চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থেকে প্রভাব খাটিয়ে তারা গোটা নাভারণ ইউনিয়নকে সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছেন। সেসময় তারা সালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, হামলা-মামলা ও চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত পড়েন। এদের বিরুদ্ধে টু-শব্দটি করার সাহস কারো নেই।
২০২৪ সালে জুলাই-আগষ্টে ছাত্র জনতার গণঅভুত্থানে হামলা ও দমন পীড়ন চালানো মূলহোতা আওয়ামী লীগ নেতা কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। নানা অপকর্মে জড়িত এই আওয়ামী ক্যাডাররা এখনো অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা স্থানীয় লোকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ- কাশেম শিকদার, আবুল কালাম অর্থের বিনিময়ে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে নিজ বাড়িতে বসবাস করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যেই। নানা অপকর্মে জড়িত কাশেম ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাশেম- কালামের অত্যাচারে বিএনপির লোকজন তাদের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল। সেমময় কয়েকজন এলাকায় থাকলেও রাতে তাদের বাড়িতে আওয়ামী ক্যাডার পাঠিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আতঙ্কে রাখা হয়েছিল। এমনকি আগে থেকে পরিকল্পনা করে তুচ্ছ ঘটনা ঘটিয়ে সালিশ বসিয়ে জোর অর্থ আদায় করতো তারা।
নতুন সরকার গঠনের এসব আওয়ামী লীগ ক্যাডারা এলাকায় ফিরে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে এখনো কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এদের মধ্যে কাশেম শিকদার দিনের বেলায় থাকছেন বাড়িতে এবং সন্ধ্যা নামলেই চলে যাচ্ছেন পাশ্বর্বতী উপজেলা শার্শার ত্রিমোহিনী শ্যমলাগাছি গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে। আবুল কালাম বর্তমানে তার বাড়িতেই থাকছেন এবং সন্ধ্যা নামলেই প্রতিনিয়ত গ্রামের সিদ্দিকের চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিয়ে সরকার বিরোধী মিটিং করেন। পুলিশের নীরবতার কারণে কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। যা নিয়ে চারিদিকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ভুক্তভোগী বাগ গ্রামের বিএনপি কর্মী রেজাউল ইসলাম বলেন- ২০২৪ সালে কাশেম শিকদার ও তার ভাই রবি শিকদারের নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা তার প্রায় ৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে দেয় আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার আলীকে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কাশেম ও তার ভাই রবি এই অপকর্মটি করেন।
এবিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন- আমি এখানে নতুন এসেছি। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।