প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির এ দ্রুত বৃদ্ধি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় পানির সমতল নেমে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ০০ মিটারে, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। তবে উজানের প্রবল ঢলের কারণে বিকেল ৩টার মধ্যে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
অন্যদিকে ধরলা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। সকাল ৯টায় শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানির সমতল ছিল ২৯ দশমিক ৯৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচে। দুপুর ১২টায় তা সামান্য কমে ২৯ দশমিক ৯১ মিটারে নেমে আসে, যা বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
তিস্তার ভাটির বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিলেও বর্তমানে নদীর চরগুলোতে উল্লেখযোগ্য মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তবে নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কায় তীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও নদীতীরবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
জ/দি