
দেশের ডাকসেবাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে চিঠি, পার্সেল এবং ডিজিটাল বাণিজ্য পণ্যের অবস্থান অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারবেন গ্রাহকরা। এ লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তর চালু করেছে ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার (ডিএমএস)।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ডাকসেবার মানোন্নয়ন, লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘মেইল প্রসেসিং অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি আধুনিক মেইল প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিলিং চেম্বার সুবিধাও রয়েছে, যা ডাকসেবার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় আরও ১ হাজার থার্মাল বক্স সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে।
মন্ত্রী জানান, ডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন সহজেই তাদের চিঠি, পার্সেল ও ই-কমার্স পণ্যের অবস্থান অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। এতে সেবার স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়বে।
ডাক বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং ডিএমএস প্ল্যাটফর্মকে উন্নত করতে ‘মেইল প্রসেসিং অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের টেকসই সহায়তা’ নামে নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে দেশব্যাপী ডাকঘরের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ‘বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের জরাজীর্ণ ডাকঘর নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২৭০টি ডাকঘরের নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলছে। পাশাপাশি ‘ডাক অধিদপ্তরের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় আরও ৩৯টি নতুন ডাকঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
ডাক বিভাগের সব কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপও প্রণয়ন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় মেইল প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন এবং নাগরিক পর্যায়ে স্মার্ট ডাকসেবা সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডাকসেবা আরও আধুনিক, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।
জ/দি