
এক উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের তদবির ব্যর্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন খান। তিনি দাবি করেছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করতে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারকের স্ত্রী সানজানা পারভীন সানু, আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ জাতায় পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা ওরফে হীরা বাবুসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন শাহাদাৎ হোসেন।
অভিযোগে তিনি জানান, উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে আসছিলেন সানজানা পারভীন সানু। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু কাঙ্খিত পদায়ন না হওয়ায় এবং অর্থ ফেরতের চাপ তৈরি হওয়ায় পুরো বিষয়টি আড়াল করতে ওই কর্মকর্তাকে নিজের ‘ভাই’ পরিচয় দিয়ে ‘এসপি’ হিসেবে প্রচার করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি অনলাইন গণমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসচিব পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং জমি-সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়, যেখানে অন্য ব্যক্তির নাম থাকলেও তা যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, এই প্রতিবেদক শাহাদাৎ ও সানুর কথোপকথনের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন নথি, অডিও ক্লিপ ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি যশোরে এবং তিনি পুলিশ বিভাগের কেউ নন। অন্যদিকে সানজানা পারভীন সানুর বাড়ি বগুড়ায়। তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্কও নেই। ফলে তাকে ‘এসপি’ পরিচয়ে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মো. জুয়েলের মাধ্যমে তার সঙ্গে সানজানা পারভীন সানুর পরিচয় হয়। জুয়েলের কাছে তার কিছু অর্থ পাওনা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। একপর্যায়ে কৌশলে তাদের একসঙ্গে ছবি তোলা হয় এবং পরবর্তীতে সেই ছবিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শাহাদাৎ আরও বলেন, জুয়েলের অনুরোধে বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের একটি কমিটিতে তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরিচয়পত্র বাবদ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরবর্তীতে সানজানা পারভীন সানুও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং কমিটির সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করেন।
তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট উপসচিবের পদায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের মিডিয়া বা দালালচক্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ এ ধরনের তদবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তার অভিযোগ, পরবর্তীতে নিজেকে আড়াল করতে সানজানা পারভীন সানু ওই কর্মকর্তাকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ‘এসপি’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। একইসঙ্গে শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অনলাইন গণমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যারা এসব অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে সানজানা পারভিন সানু জানান, ওই উপ-সচিব তার কোনো আত্মীয় নন ও তাকে এসপি হিসেবে কোথাও পরিচয় দেননি। এ ব্যাপারে শাহাদাৎকে জড়িয়ে নিউজ হয়েছে তাও তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য না দিয়ে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।