
মহানগরীতে কর্মজীবী এক নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকার মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ ও ধাপ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেন। ১৯ মে মঙ্গলবার বিকেলে ওই টাকা ব্যাংকে জমা রেখে ধাপ কটকিপাড়া এলাকার স্কাই লন হোটেলের পেছনে অবস্থিত ভাড়া বাসায় ফেরেন।
সন্ধ্যার পর স্থানীয় কয়েক যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে ঘরে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা তোশকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে এবং বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা দাবি করে। এতে রাজি না হলে ওই নারীকে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তার ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতাও নিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ওই চার যুবক ভুক্তভোগীর জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন।
পরে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নির্দেশনায় মহানগর ডিবির একটি দল ও ধাপ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করে ইয়াবাসাদৃশ্য বস্তুগুলো প্রাথমিক পরীক্ষায় ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদকে (২০) আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আজ (বুধবার) দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পেশাদারিত্ব, সততা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জ/দি