প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ‘ধক ধক গার্ল’ খ্যাত মাধুরী দীক্ষিতের সফল ক্যারিয়ার নিয়ে আজও ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। একের পর এক হিট সিনেমা ও মনমুগ্ধকর নাচের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন রূপালি পর্দার এক অনন্য নাম। তবে তার এই গ্ল্যামারাস জীবনের শুরুটা ছিল অনেক কঠিন ও সংগ্রামময়।
১৯৮৪ সালে ‘আবোধ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন মাধুরী দীক্ষিত। শুরুতেই একাধিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সেই সময় এক স্বল্প বাজেটের সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পান তিনি, যেখানে প্রযোজনা সংকট এতটাই ছিল যে টিম চরম আর্থিক সমস্যায় পড়ে যায়।
জানা যায়, ওই সিনেমার জন্য নায়িকার মেকআপ বা কস্টিউমের জন্য আলাদা কোনো বাজেটই ছিল না। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে, সহ-অভিনেতার পরিবারের সহায়তায় শুটিং চালিয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সহ-অভিনেতার স্ত্রীর পোশাক ধার করেও দৃশ্যধারণ সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব স্মৃতি তুলে ধরেন অভিনেতা শেখর সুমন। তিনি জানান, ‘সংসার’ সিনেমায় রেখার সঙ্গে কাজ শেষ করার পর তিনি একটি নতুন ছবির প্রস্তাব পান, যেখানে মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন নায়িকা।
তিনি আরও বলেন, প্রযোজককে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার মাধুরীর বাড়িতে গেলে তার সৌন্দর্য ও উপস্থিতিতে মুগ্ধ হন এবং সেখানেই ছবিটিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
শেখর সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় প্রযোজনার বাজেট এত কম ছিল যে শুটিংয়ের অনেক অংশ অভিনেতাদের বাড়িতেই করতে হতো। যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি ভাড়াও না থাকায় তিনি নিজেই স্কুটারে করে মাধুরীকে শুটিং সেটে নিয়ে যেতেন এবং আবার বাড়িতে পৌঁছে দিতেন।
তিনি আরও জানান, প্রযোজনা টিমে মেকআপ আর্টিস্ট বা কস্টিউম ডিজাইনার রাখার মতো সামর্থ্য ছিল না। ফলে তার স্ত্রী অলকা নিজে মাধুরীর মেকআপ করতেন এবং অনেক দৃশ্যে নিজের ব্যক্তিগত পোশাক ব্যবহার করতে দিতেন। বলিউডের ইতিহাসে মাধুরী দীক্ষিতের এই সংগ্রামময় শুরুর গল্প আজও অনুপ্রেরণা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
জ/উ