প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম

নানা সংকটে কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা নিয়মিত সচল থাকে না। পাশাপাশি প্যাথলজি পরীক্ষাও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। অভিযোগ রয়েছে, পদায়ন থাকা সত্ত্বেও কিছু চিকিৎসক নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত হন না।
উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে হাসপাতালে বসে আছি, কিন্তু এখনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। আমরা গরিব মানুষ, বারবার শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব না। এখানে ঠিকমতো সেবা পেলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
হরিশপুর গ্রামের সালমা খাতুন বলেন, আমার বাচ্চাকে নিয়ে অনেক দূর থেকে এসেছি। ডাক্তার না থাকায় ঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। আগের দিন এক্স-রে করতে বলেছিল, কিন্তু হাসপাতালে না হওয়ায় বাইরে থেকে করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, নিয়মিত দায়িত্বে অনুপস্থিত তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৫ সালে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে অনুমোদিত ১৬৭ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৯ জন। প্রতি মাসে প্রায় ১৩ হাজার রোগী এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন, যা বিদ্যমান সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
জ/দি