
বর্তমানে চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা। খারাপ জীবনধারা, মানসিক চাপ, সঠিক খাবার না খাওয়ার অভ্যাস, শব্দ দূষণ ইত্যাদি চুলের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানো। আর সেই পুষ্টির বড় একটি অংশ আসে আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই। সামান্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে, নিয়মিত কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তাহলে জেনে নেওয়া যাক, চুল পড়া কমাতে ও চুল ঘন করতে কোন খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত-
বাদাম
চুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন আখরোট, আমন্ড ও কাজুর মতো বাদাম। এসব বাদামে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।
চিয়া বীজ
চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের পুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দই বা সালাদের সঙ্গে নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
শিমের বীজ
চুল পড়া আটকাতে চান, একই সঙ্গে চুল ঘন করতে চান? সে ক্ষেত্রে শিমের বীজ হতে পারে দারুণ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা চুলের গঠন ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে চুলের শক্তি বাড়ে।
পনির
নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস কটেজ চিজ। শোভন সাহা বলেন, ‘এতে উচ্চমানের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা চুলের গঠনের জন্য অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, এর ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ সরাসরি আপনার চুলের গঠনগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে সহায়ক এবং চুলের জন্য প্রয়োজনীয় কেরাটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
মেথি বীজ
মেথির বীজ ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত।
পালং শাক
পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। এই ভিটামিন চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে। চুল পড়া কমাতেও পালং শাক বেশ কার্যকর।
ডিম
চুলের যত্নে সবচেয়ে উপকারী ডিম। ডিম প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন বি১২, আয়রন, জিংক এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। এই ভিটামিন এবং খনিজগুলোর মধ্যে যে কোনো একটির অভাব হলেও, চুলের গুণমান খারাপ হতে পারে। তাই চুল পড়া বন্ধ করতে খাদ্য তালিকায় ডিম অবশ্যই রাখুন।
ওটস
ওটস কেবলমাত্র ফাইবার সমৃদ্ধ নয়, এতে জিংক, আয়রন এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও আছে। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বক ভাল রাখে, চুলের বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই আপনার রোজকার ব্রেকফাস্টের তালিকায় ওটস অন্তর্ভুক্ত করুন।
আমলকি
প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আমলকি খেলে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।
অঙ্কুরিত মুগ ডাল
চুলের গোছা মজবুত করার জন্য এটি অব্যর্থ উদ্ভিদভিত্তিক উপাদান। শোভন সাহা ব্যাখ্যা করেন, ‘অঙ্কুরিত মুগ ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, বায়োটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা একেবারে গোড়া থেকে চুল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।’ যেহেতু অঙ্কুরিত শস্য সহজে হজম হয়, তাই শরীর কোনো রকম জড়তা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো শোষণ করতে পারে।
গাজর
গাজর কেবলমাত্র চোখের ক্ষেত্রে নয়, ত্বক এবং চুলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারী। গাজর ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ। এটি স্ক্যাল্পে পুষ্টি সরবরাহ করে। চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুলকে ময়শ্চারাইজড রাখে। তাই গাজরকে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
লো ফ্যাট ডেয়ারি প্রোডাক্ট
চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই দই কিংবা পনির অন্তর্ভুক্ত করুন। ভালো ফল পেতে চাইলে, জিংক এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ আখরোট কিংবা ফ্ল্যাক্সসিডও যোগ করতে পারেন।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলু ভিটামিন-এ শোষণ করতে পারে। এ ছাড়া এগুলো বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ। চুলের ঘনত্ব এবং সিবাম উৎপাদনের জন্য ভিটামিন এ অপরিহার্য, যা আপনার চুলকে সুস্থ এবং প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র রাখে। তাই ডায়েটে মিষ্টি আলু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
সবুজ কড়াইশুঁটি
চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবুজ কড়াইশুঁটি অত্যন্ত উপকারী। সবুজ কড়াইশুঁটি ভিটামিন বি, জিংক এবং আয়রনের উৎস। স্বাস্থ্যকর চুল বজায় রাখার জন্য এগুলো অপরিহার্য। তাই খাদ্য তালিকায় অন্যান্য শাকসবজির পাশাপাশি, সবুজ কড়াইশুঁটিও অন্তর্ভুক্ত করুন।
জ/উ