প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। নদীর ভাঙন মাদ্রাসার একেবারে গা ঘেঁষে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ও ভবনের সামনের অংশ নদীতে ধসে গেছে। ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের নির্দেশে মাদ্রাসার আসবাবপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, যমুনার প্রচণ্ড স্রোতে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন মাদ্রাসার মূল ভবনের একেবারে কাছে চলে এসেছে। ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙনের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পুরো ভবনটি নদীতে ধসে পড়তে পারে।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে মাদ্রাসার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভবনটি আর নিরাপদ নয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিয়ান নূরের নির্দেশে চেয়ার, টেবিল, আলমারি, শিক্ষাসামগ্রীসহ মূল্যবান আসবাবপত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় পুরো মাদ্রাসাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজানের ঢল ও নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক দিনে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মাদ্রাসার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ভাঙনকবলিত মাদ্রাসা এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চললেও এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমান ব্যবস্থা ভাঙনের তীব্রতার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তারা দ্রুত স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকাকে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।