প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

গরুর দুধ পুষ্টিকর হলেও এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য এটি উপযুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপকারী এই দুধ শিশুর দ্রুত বেড়ে ওঠা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
কেন ১২ মাসের আগে গরুর দুধ অনিরাপদ
বিশ্বের বিভিন্ন শিশুস্বাস্থ্য সংস্থা, যেমন সিডিসি (CDC), ১২ মাসের আগে গরুর দুধ না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। কারণ এই বয়সে শিশুর কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত থাকে না।
গরুর দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান যেমন ভিটামিন ই এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর চর্বি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে এটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য দিতে পারে না।
আয়রনের ঘাটতি ও কিডনির ওপর চাপের ঝুঁকি
এক বছরের কম বয়সে গরুর দুধ খাওয়ালে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ এতে আয়রনের পরিমাণ কম এবং শরীর সহজে তা শোষণ করতে পারে না। কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণের সম্ভাবনাও থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তস্বল্পতা বাড়াতে পারে।
এছাড়া গরুর দুধে প্রোটিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস তুলনামূলক বেশি থাকে। শিশুর অপরিণত কিডনি এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে হিমশিম খেতে পারে, যা ডিহাইড্রেশনসহ অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে-বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা অসুস্থ অবস্থায়।
কখন থেকে গরুর দুধ দেওয়া নিরাপদ
শিশুর বয়স ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার পর সাধারণত সম্পূর্ণ গরুর দুধ খাওয়ানো নিরাপদ বলে ধরা হয়। এ সময় শিশুর পরিপাকতন্ত্র ও কিডনি তুলনামূলকভাবে পরিপক্ব হয় এবং পাশাপাশি সে ধীরে ধীরে কঠিন খাবার গ্রহণ শুরু করে।
শেষ কথা
এক বছরের কম বয়সে শিশুর প্রধান খাদ্য হওয়া উচিত মায়ের দুধ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফর্মুলা মিল্ক। গরুর দুধ তখনই খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত, যখন শিশুর শরীর তা হজম ও গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
জ/উ