বেবিচকে দুর্নীতির মামলা ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়
ঘটনা তদন্তের দাবি কর্মকর্তাদের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (বেবিচক) বিতর্কিত প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংস্থাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুদকের মামলাসহ একাধিক অভিযোগ থাকা সত্তে¡ও তাকে পদোন্নতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেবিচকের অনেক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়। প্রায় চার বছর ওই দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের প্রভাবেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তার অপসারণের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি এই পদোন্নতি পেতে তিনি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে এবং ওই মামলায় তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবুও গত বছরের ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর তিনি তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সফরের বিষয়ে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। সফরের সময় তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে পরে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দেশে ফেরেন। কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, বিদেশে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যেই এসব সফর করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বেবিচকের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। এ ছাড়া সিভিল সার্কেল-৩-এর গত ১০ বছরের প্রকল্পের তদন্ত শুরুর সময়ও তিনি তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন না পাওয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে কার্যাদেশ দেওয়া হতো না। এভাবেই তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।

বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুই থেকে তিন বছর পর কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কথা থাকলেও আমিনুল হাসিব চার বছর ধরে একই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এখন তাকে পূর্ণ পদোন্নতি দেওয়ায় সংস্থার ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সিভিল সার্কেল-৩-এর গত এক দশকের সব উন্নয়ন প্রকল্প এবং আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft