চুলের যত্নে আঁচড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত-এ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। একসময় ভিক্টোরিয়ান যুগে দিনে ১০০ বার চুল আঁচড়ানোর প্রচলিত ধারণা থাকলেও আধুনিক বিজ্ঞান এটিকে ভুল বলে মনে করে।
১০০ বার চিরুনি চালানো কি সত্যিই দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ১০০ বার চুল আঁচড়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং অতিরিক্ত আঁচড়ালে চুলে ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে ‘স্প্লিট এন্ড’ বা চুলের আগা ফাটার সমস্যা তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ ও ঘর্ষণে চুল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে-যাকে ‘কিউমুলেটিভ ফ্যাটিগ ড্যামেজ’ বলা হয়।
চুল আঁচড়ানো কেন জরুরি?
সঠিকভাবে ও পরিমিত আঁচড়ানো চুলের জন্য উপকারী। এতে- চুলের জট কমে এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। মাথার ত্বকের মৃত কোষ ও ময়লা দূর হয়। প্রাকৃতিক তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
চুলের ধরন অনুযায়ী কতবার আঁচড়াবেন?
চুলের ধরন অনুযায়ী আঁচড়ানোর পরিমাণ আলাদা হওয়া উচিত।
সোজা বা ঢেউখেলানো চুল: দিনে ১-২ বার বা সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার আঁচড়ানো যথেষ্ট। তবে ভেজা চুল আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে চুল সহজে ভেঙে যেতে পারে।
কোঁকড়া বা কার্লি চুল: এই ধরনের চুল শুকনো অবস্থায় আঁচড়ালে ক্ষতি হতে পারে। তাই সাধারণত ধোয়ার সময় বা ভেজা অবস্থায় কন্ডিশনার ব্যবহার করে ধীরে ধীরে আঁচড়ানো উত্তম।
সঠিক চিরুনি নির্বাচনও জরুরি
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপযুক্ত চিরুনি ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
ভেজা চুলের জন্য নরম ব্রাশ বা ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।
শুকনো চুলের জন্য বোর ব্রিস্টল ব্রাশ চুলের প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো সংখ্যা নয়, বরং যত্ন ও পদ্ধতি। নিয়মিত কিন্তু পরিমিত ও কোমলভাবে চুল আঁচড়ালে চুল থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, মজবুত ও সুন্দর।
জ/উ