প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কালিহর নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতকের লাশের নেপথ্য কাহিনি উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পেছনে বেরিয়ে এসেছে ১২ বছরের এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও লোকলজ্জার আড়ালে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এক নৃশংস চিত্র।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মোঃ সাজন মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। সাজন উপজেলার কোনাকালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।
গত ২৯ জুন সকাল সোয়া ১১টার দিকে পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকায় কালিহর নদীতে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা এবং কালো শার্টে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পূর্বধলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পূর্বধলা থানা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ঘটনার মূল হোতা সাজন মিয়াকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও হেফাজতে থাকা ভিকটিম শিশুর জবানবন্দিতে জানা যায়, তার মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদারের কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মা বাইরে থাকার কারণে বাড়িটি খালি থাকত। আনুমানিক সাত মাস আগে প্রথমবার ঘরে একা পেয়ে সাজন মিয়া ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই-তিন দিন পর পরই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হতো।
লাগাতার এই নির্যাতনের ফলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তবে বয়স কম ও শারীরিক গঠন ছোট হওয়ার কারণে তার বাবা-মা বিষয়টি টের পাননি।
গত ২৯ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে ঘরের প্রস্রাবখানার পাশে ওই শিশু একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করে। ঘটনার আকস্মিকতায় শিশুটি তার মাকে সব খুলে বললে, মা সাজন মিয়াকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সাজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ৩০ জুন ভোররাতে সাজন মিয়া নিজের একটি কালো শার্ট দিয়ে মৃত নবজাতকের লাশটি পেঁচিয়ে, রশি দিয়ে ইট বেঁধে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেয়, যাতে লাশটি আর ভেসে উঠতে না পারে।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান মূল আসামি সাজন মিয়াকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার গভীরে যেতে এবং অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।