ব্যাংক খাতে লোকসান বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা
অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২০ পিএম

দেশের ব্যাংক খাতে আর্থিক চাপ ও দুর্বল ব্যাংকগুলোর বড় লোকসানের কারণে সামগ্রিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ও মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে ২০২৪ সালে মুনাফা কমে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে পুরো খাত লোকসানে চলে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই (একিউআর) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এই পর্যালোচনায় কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এর আগে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির সময়ও পুরো খাত লোকসানে পড়েছিল। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারির প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাবে স্থিতিশীল স্বর্ণের বাজার

ব্যাংকগুলোর পৃথক আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, গত বছর ১০টি ব্যাংক মিলিয়ে মোট লোকসান হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। তবে কিছু লাভজনক দেশি ও বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা যোগ হওয়ায় সামগ্রিক লোকসান কিছুটা কমে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

লোকসানের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার লোকসান ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩১ হাজার কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ২৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে।

এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকও লোকসানী ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে।

আরও পড়ুন : ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

অন্যদিকে, কয়েকটি ব্যাংক তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত বছর ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে শীর্ষে রয়েছে। দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ বর্তমানে ‘ডিস্ট্রেসড’ বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিলকৃত ঋণ। বাকি অংশ খেলাপি, অবলোপনকৃত এবং আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ডিস্ট্রেসড ঋণের সংজ্ঞা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে যে ঋণ থেকে আয় আসে না বা নিয়মিত পরিশোধ হয় না, সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft