প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চুক্তি-সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার দিকে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩১ দশমিক ২৯ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৫১ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে গত সোমবার স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভাব্য এ চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর হলে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেল রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে।
ইরানের তেল সরবরাহ পুনরায় বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক তেলের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে এটি প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক হওয়ায় বাজারে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর অধিকাংশ নীতিনির্ধারক সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেলে কিছু সদস্য সুদহার বাড়ানোর পক্ষে মত দিতে পারেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৫৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ঘোষণা আসার আগে এ সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধি পেলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭০ দশমিক ০৫ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯২ দশমিক ০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৪১ দশমিক ২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
জ/উ