
বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সরবরাহজনিত কারণে সাময়িকভাবে বিলম্বিত হলেও দ্রুতই এটি পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিসেফের মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি মাসের মধ্যেই ক্যাপসুল দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং জুনের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পেইন পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বছরে দুইবার পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর দুই দফায়-মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে-দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, শিশুদের সঠিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরবরাহ প্রক্রিয়া ও চলমান উদ্যোগ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হলেও বর্তমানে ইউনিসেফের সহযোগিতায় সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একটি রাউন্ডের ক্যাপসুল ক্রয়ের পাশাপাশি পরবর্তী রাউন্ডে সহযোগিতামূলক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ক্যাপসুল দেশে পৌঁছাবে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২৭ জুনের মধ্যে ক্যাম্পেইন শুরু করা সম্ভব হবে।
শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-এ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংক্রমণজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক। বিশেষ করে হাম, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় পুষ্টি জরিপে দেখা গেছে, শিশু ও নারীদের মধ্যে ভিটামিন-এসহ বিভিন্ন অনুপুষ্টির ঘাটতি এখনো বিদ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনকে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা জানান, সময়মতো ক্যাম্পেইন পরিচালিত হলে শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। একইসঙ্গে তারা ভিটামিন-এ কর্মসূচির পাশাপাশি কৃমিনাশক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধে ১৯৭৪ সাল থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি সম্প্রসারিত হয়ে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
জ/উ