নেত্রকোণায় কম্পোস্ট সার তৈরির কর্মশালা: নিরাপদ খাদ্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জোর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় নেত্রকোণার সদর উপজেলার কাইলাটি গ্রামে জৈব কৃষিচর্চাকারীদের নিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় “কাইলাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার” এ কর্মশালার আয়োজন করে।
গত ১৩ এপ্রিল দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মশালায় গ্রামের ২০ জন উদ্যমী জৈবচাষী অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান আলোচক ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষক গবেষক গোলাম মোস্তফা মধু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানজিদা খাতুন, দরুনবালি এগ্রোইকো লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কৃষক আবুল কালাম এবং বারসিক কর্মকর্তা রোখসানা রুমি। কর্মশালায় গোলাম মোস্তফা মধু কম্পোস্ট সার তৈরির বিভিন্ন পদ্ধতি, সঠিক উপাদান ও এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এসময় তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া বাড়ছে এবং মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক চাষাবাদের জন্য বাড়িতে তৈরি কম্পোস্ট সারের বিকল্প নেই। তিনি হাতে-কলমে ভার্মি কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট ও গর্ত কম্পোস্ট তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি ট্রাইকো-কম্পোস্ট, তরল সার, সবুজ সার, ছাই ও গোবর ব্যবহারের পদ্ধতিও তুলে ধরেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে এ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। কাইলাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক যুব কৃষক এনামুল হক আকাশ বলেন, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য কাইলাটি গ্রামকে কীটনাশকমুক্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুদিনা গাছের পাতা বিতরণ করা হয় এবং কেন্দ্রটি পরিদর্শন করা হয়।
জ/দি