ত্রয়োদয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মেহেরপুরে বিজয়ী প্রার্থীদের নেপথ্যে কৌশলসমূহ ও কারণ সমূহ
উম্মে ফাতেমা রোজিনা, মেহেরপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৮ পিএম আপডেট: ১৭.০৩.২০২৬ ১০:৩৩ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুরের দুটি আসনে নতুন রেকর্ড করেছে বিজয়ী প্রার্থীরা। ইতিপূর্বে কোন নির্বাচনে এভাবে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বেছে নেয়নি মেহেরপুরের ভোটাররা। ধানের শীষের ভোট ব্যাংকের এলাকাখ্যাত জেলাটিতে এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা। এবার নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ লক্ষ্যণীয়। নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে কৌশলগুলো সুফল দিয়েছে বলে জানাচ্ছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। আর আর পরাজিত হওয়ার কারণ সম্পর্কেও সুনিশ্চিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।  ভোটাররা জানাচ্ছে এবার ভোটে বেশ কিছু অনুষঙ্গ তাদের প্রভাবিত করেছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের গোভিপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকান ১০-১২ জন গল্পে মগ্ন।  নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশ, করণীয় এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা চলছিল ভোটারদের মধ্যে। চায়ের আড্ডার সারসংক্ষেপে বোঝা যায়, দেশ পরিচালনায় নতুন মুখ, সততা এবং পাশে থাকার আশ্বাস এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে তাদের। তবে এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারাটাই তাদের মূল আনন্দের বিষয়। 

চা পান করতে আসা একজন ভোটার মহিদুল ইসলাম জানান,  এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন তিনি। নিজ কেন্দ্রে কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন।  জানাচ্ছেন তারুণ্যের শক্তিকে উজ্জীবিত রাখতেই এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন মহিদুল।  

অপর একজন ভোটার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন,  যাকেই ভোট দেয়া হয় সে কখনো গরিবের কথা ভাবে না। এলাকার উন্নয়নে নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই ভোটার।  

তবে চা দোকানী সোলায়মান হক বললেন,  নিজেদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে কখনোই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়।  ভোটের আগে ওপরে এলাকার ভোটারদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাবকেই ইঙ্গিত করলেন তিনি।  

শুধু সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রাম নয় একই ধরনের মনোভাব জেলার অন্যান্য ভোটারদের মধ্যে।  তবে পরিসংখ্যান বলছে এবার জেলায় ৫১ শতাংশ ভোটার ছিল নারী।  এছাড়াও মেহেরপুরের দুটি আসনে ২০০৮ সালের পর নতুন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে প্রায় ৩৯ হাজার ভোটার। এদের অনেকেই বিগত সরকারের ভোট বর্জন করেছিল। 

নারী ভোটারদের একজন রিমি খাতুন বলেন, এর পূর্বে নিজের উপর দিতে যায়নি কারণ পছন্দের প্রার্থী ছিল না।  এবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।  

অপরদিকে তরুণ ভোটার সানজিদা জানান, নারীর অবাধ বিচরণের স্বাধীনতা আর ফ্যাসিবাদ দূর করতে  এবার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। 

একাধিক রাজনৈতিক কর্মীর সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়,  মেহেরপুর জেলার দুটি আসনে জামাতের নারী কর্মীদের তৎপরতা ছিল উল্লেখযোগ্য।  প্রতিটি বাড়িতে মহিলা জামায়াতের ভোট চাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে দলটি। ধারণা করা হচ্ছে নারী ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পক্ষে গিয়েছে। 

এদিকে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি'র একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও দলীয় অন্তঃকোন্দল ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেকেই ধানের শীষ প্রতীক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে দলের কর্মীরা। 

বিএনপি কর্মী আসাদুল ইসলাম বলেন,  দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে দুটি পক্ষ দৃশ্যমান ছিল।  মনোনয়ন পুনর বিবেচনার দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।  নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দুটি আসনেই বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেনি।  আর এটিই এই দুটি আসনে বিএনপি'র ভরাডুবির মূল কারণ। 

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের পরাজিত প্রার্থী বিএনপি মনোনীত আমজাদ হোসেন বলেন, ভোট দিবে এমন আশা থাকলেও অনেকেই তা করেনি।  এছাড়াও নির্বাচনী কারচুপি ও টাকার লেনদেনের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি। 

এদিকে মেহেরপুর ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুন এ সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি। 

এবার প্রথম জামায়াত ইসলামী জেলার দুটি আসনে নিরঙ্কুশ জয়ের কারণ জানতে চাইলে মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দিন খান বলেন, মানুষ নতুন নেতৃত্ব দেখতে চেয়েছে।  এলাকার সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার ফল এবার নির্বাচনের বিজয়। এলাকার যোগাযোগ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে কর্মপরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। 

উল্লেখ্য মেহেরপুর ১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুনকে ১৯ হাজার ভোটে হারিয়ে  তাজউদ্দিন খান  এবং মেহেরপুর ২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছে নাজমুল হুদা।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই, উৎস মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ১৯–২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (SACMID) ও ইউনেস্কো (UNESCO) আয়োজিত “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অখণ্ডতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং” শীর্ষক প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতার আলোকে সম্পন্ন করা হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft