প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) পরিবহন বিভাগে মাসের পর মাস সীমাহীন দুর্নীতি চললেও দেখার কেউ নেই। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে পরিবহন বিভাগে জ্বালানী ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা লুটপাট চলছে। বর্তমানে পরিবহন বিভাগে স্টুডেন্ট বাস এবং পরিবহন ট্রাকসহ ভিসি ও অন্যান্যদের জন্য মোট ৩১ টি গাড়ী রয়েছে। এছাড়া বিআরটিসি থেকে তিনটি ডাবল ডেকার বাস ভাড়া করে এনে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
স্টুডেন্টদের জন্য নির্ধারিত ১৯ টি বাসের মধ্যে ৮ টি অকেজো। অকেজোগুলি কার্যকর করতে প্রচুর অর্থ ব্যায় হলেও তা আর চলেনি। বাকী ১১ টি বাসের মধ্যে ৫ টির কোনো রেজিষ্ট্রেশন নেই। রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই চলছে ওই বাসগুলি। গত ৪/৫ বছর আগে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেয়া হলেও এখনও রেজিষ্ট্রেশন হয় নাই। স্টুডেন্টদের জন্য নির্ধারিত বাসগুলির সাথে দুটি অ্যাম্বুলেন্সেরও রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু এযাবৎ কোনো কাগজাদি পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেছেন পরিবহন প্রশাসক (অ: দা:) এবং পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের প্রধান হাসিম রেজা।
তিনি বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে পরিবহন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছি। বারবার চেষ্টা করেও বিআরটিএ থেকে কাগজাদি পাইনি। গাড়ীগুলোর রেজিষ্ট্রেশন না থাকায় সাংকেতিক নাম্বার ব্যবহার করে বিল, ভাউচার করতে হয়। এদিকে গোবিপ্রবির পরিবহন প্রশাসকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় কতো তা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেন নাই।
বিগত বছরের ব্যয় সংক্রান্ত নথি তিনি দেখাতে পারেন নাই। তবে তিনি বলেছেন বিগত সময়ে ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য কর্তৃপক্ষ আমাদের বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা করে দিত। ওতে আমাদের হয় না। তাই গত বছর আমি বিল, ভাউচার করে দেড় কোটি টাকা আদায় করেছি। আমার তৈরি করা বিলের উপর আস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থ ছাড় দিয়েছে। আমাদের এখনও ড্রাইভার ও হেলপার স্বল্পতা রয়েছে। টায়ার কেনার টাকা নেই। আমি এসব বিষয় ভিসিকে জানিয়েছি। তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। সংগত কারনে আমি সঠিকভাবে পরিবহন বিভাগের সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারছিনা।
বার্ষিক কতো লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয় বা গাড়ীগুলি রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে গ্যারেজ আছে কিনা জানতে চাইলে পরিবহন প্রশাসক বলেন, জ্বালানি তেল কতো লিটার লাগে তা জানতে হলে কাগজাদি দেখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত গ্যারেজ নেই।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবহন প্রশাসক হাসিম রেজা আরও বলেন, আমার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক। আমরা দুজনেই উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যাবো শীঘ্রই। গোবিপ্রবির পরিবহন বিভাগের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ভিসি ড.হোসেন উদ্দিন শেখরের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি অপর প্রান্ত থেকে সাড়া দেননি।
জ/দি