প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় নিজ অর্থায়নে অতিরিক্ত চাল কিনে মোট ১৯০০ পরিবারের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানী।
আজ রোববার সকাল থেকে উপজেলার ২নং জামনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ১৯০০ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
জানা যায়, সরকারিভাবে ওই ইউনিয়নের জন্য ১২ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ আসে, যা দিয়ে ১২০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা সম্ভব। কিন্তু ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানী উপজেলা প্রশাসনের কাছে ১৯০০ পরিবারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। পরে বরাদ্দ না বাড়ায় নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত চালের ব্যবস্থা করেন তিনি।
জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুরাইয়া পারভীন জানান, সরকারি বরাদ্দের ১২ মেট্রিক টন চাল দিয়ে ১২০০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজ অর্থায়নে বাজার থেকে প্রায় ৫ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করে দেন। এছাড়া বরাদ্দকৃত চাল থেকে সামান্য সমন্বয় করে মোট ১৯মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করে প্রায় ১৯০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান প্রায় ৩৮ টাকা কেজি দরে অতিরিক্ত চাল কিনে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ভর্তুকি দিয়েছেন, যাতে অধিক সংখ্যক দরিদ্র পরিবার ঈদের আগে খাদ্য সহায়তা পায়।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলহাজ মো. হাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, জামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রথমে ১৯০০ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হলেও সরকারি বরাদ্দ আসে মাত্র ১২ মেট্রিক টন। ফলে অনেক পরিবার বাদ পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজ অর্থায়নে অতিরিক্ত চাল কিনে সকল হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইউনিয়নের ১৯০০টি হতদরিদ্র পরিবার যেন খাদ্য সহায়তা পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।