প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিঃস্ব আপন বড় ভাই আব্দুর রহমান (৬০) কে নিজ বসতভিটায় আশ্রয় দিয়ে বিপাকে পড়েছে ছোট ভাই মধু মোল্লা (৫০)। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১মে) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার পোয়ালশুড়া ঝাউপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। থানায় দায়ের হয় দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই ও ভাবী আজিরনের নামে ঘরবাড়ী ভাংচুর ও ৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ দায়ের করেন বড় ভাই। অপর দিকে মারামারী ঘটনায় মারধর ও মেরে ফেলার হুমকির বিচার চেয়ে ভাশুর আব্দুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী কোহিনুরকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ করেছেন ছোট ভাইয়ের বউ আছিরন বেগম (৪৫)।
এদিকে শুক্রবার (২২মে) দুপুর ১২ টার দিকে বড় ভাইয়ের বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী ছোট ভাই মধু মোল্লার বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সত্য ঘটনা তুলে ধরে ভাসুড়ের বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন ছোট ভাই মধু মোল্লার স্ত্রী আজিরন বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন আজিরন বেগমের মেয়ে জুলিয়া খাতুন ও ছেলে আব্দুল্লাহ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ীর ভেভর দিয়ে যাওয়ার পথে রাখা মাটির পাত্রের ভাসুর রহমানের পায়ের ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এটা শুনে মোল্লার স্ত্রী আজিরন বেগম গালিগালাজ করতে বারণ করেন ভাসুর রহমানকে। তিনি আমার কথা শুনে রেগে আমার দিকে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে তাঁর স্ত্রী আসলে দুই জনে মিলে আমার উপর লাঠিচার্জ করে। খবর পেয়ে আমার স্বামী মধু মোল্লা সেখানে উপস্থিত হওয়া মাত্রই তাঁর উপর ও চালানো হয় মারধর ও লাঠিচার্জ। পরে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে সেখান থেকে চলে যায় ভাসুর ও তাঁর স্ত্রী। মারধর থেকে উদ্ধার পান তাঁরা। পরে আমার ভাসুর ও তাঁর স্ত্রী নিজেরাই নিজ বাড়ীঘর ভেঙ্গে থানায় গিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মধুমোল্লার স্ত্রী আজিরন বলেন, আমার ভাসুর ধারদেনা করে ঋণ গ্রস্ত হয়ে পড়েন। বসভিটা ও জমিজমা বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে ঘুরতে থাকলে আমার স্বামী মধুমোল্লা তাঁকে আশ্রয় দেন। দীর্ঘ ধরে ঘরবাড়ি করে সেখানেই থাকছেন তাঁরা। সেখানে থেকেই প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমরা সেটা মনে করি না। এমন ঘটনায় আমরা অনেক কষ্ট ও দুঃখ পেয়েছি। আমার ভাসুরকে এখানে আর থাকতে দেওয়া হবে না।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান অকপটে স্বীকার করে বলেন, আমি আমার ছোট ভাইয়ের জায়গার উপর ঘর নির্মাণ করে আছি। এটা সত্য। আমি জায়গা ছেড়ে চলে যাব,তবে সময় দিতে হবে। আমি নির্দোষী। আর এ ঘটনায় আমাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল আলম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- মারামারী ঘটনায় থানাতে দুইটি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সত্য ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জ/দি