প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:১০ পিএম

লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-রিয়ানি বুধবার এ দাবি করে বলেন, ইরানের পরামর্শে হুতিরা এমন উদ্যোগ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
আল-রিয়ানি বলেন, এই পরিকল্পনা অত্যন্ত বিপজ্জনক উসকানি। তার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থ সংগ্রহের উৎসে পরিণত করার অপচেষ্টা এটি।
তবে ইয়েমেন সরকারের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হুতি বিদ্রোহীরা। একইভাবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেন সরকারের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের ফি আরোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির কার্যক্রম লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের ঘোষণা দেয় হুতিরা।
এদিকে মঙ্গলবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ।
পরদিন বুধবার ইরাকে ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় সৌদি আরব। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, মার্কিন বাহিনী ও সৌদির তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।