
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, আজাদ কাশ্মিরের বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘ভারতের মতোই শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। খবর এনডিটিভির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খাজা আসিফকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আজাদ কাশ্মিরের বিক্ষোভকারীদের ভারত যেমন শত্রু, তেমনি শত্রু হিসেবেই দেখি।’ এ মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন পিওকের রাওয়ালাকোট এলাকায় নতুন করে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত দুই দিনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩২ জন কাশ্মিরি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে মিরপুর শহরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালাতে এবং পরে নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহতদের অধিকাংশই যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-সংশ্লিষ্ট কর্মী বলে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করায় ইসলামাবাদ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নিহতদের মধ্যে জেএএসি'র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জেএএসি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে গুলির মুখে সাধারণ মানুষকে ছুটে পালাতে এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কে মরদেহ ও মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমেছিলেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেএএসি জানায়, মিরপুরে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং চুরহোইসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
আরেক পোস্টে সংগঠনটি অভিযোগ করে, রাওয়ালাকোটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলি চালিয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির তরুণ সদস্যদের লক্ষ্য করেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
জেএএসি আরও দাবি করেছে, তারা নিহতদের মরদেহ সংগ্রহ করছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও গভীর সংকট সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, তারা জোরপূর্বক রাওয়ালাকোটে প্রবেশ করেনি; এটি তাদের নিজস্ব এলাকা, যা অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
সংগঠনটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জ/উ