
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সময়মতো নামাজ আদায়, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন যথারীতি সালাত কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।” (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? জবাবে নবী (সা.) বলেন, সময়ের মধ্যে সালাত আদায় করা। এরপর তিনি বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার এবং তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)
নামাজ শুধু আদায় করাই নয়, বরং তা সঠিকভাবে আদায় করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হজরত উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করবে, সময়মতো নামাজ আদায় করবে এবং রুকু ও খুশু-খুজু পূর্ণ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করার ওয়াদা করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৫৭০)
গণক-জ্যোতিষীর কাছে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা
হাদিসে এমন একটি কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং যার কারণে ৪০ দিন নামাজ কবুল না হওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একজন স্ত্রীর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেছেন—
যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, তার ৪০ রাতের (বা ৪০ দিনের) নামাজ কবুল করা হবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩০; কিছু সংস্করণে হাদিস নম্বর ভিন্ন হতে পারে)
ইসলামী বিদ্বানদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে নামাজ কবুল না হওয়া বলতে নামাজ আদায়ের দায়িত্ব (ফরজ) থেকে অব্যাহতি পাওয়া বোঝায় না। অর্থাৎ, ওই ব্যক্তি অবশ্যই নিয়মিত নামাজ আদায় করবেন। তবে এই কাজের কারণে তিনি নামাজের পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই গণক, জ্যোতিষী বা ভাগ্য গণনার মতো ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলাম মানুষকে ভবিষ্যৎ জানার জন্য গণক বা জ্যোতিষীর কাছে না গিয়ে আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা, বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার এবং কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণের শিক্ষা দেয়।