
ইসলামে অপবাদ বা মিথ্যা অভিযোগকে অত্যন্ত জঘন্য কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ব্যক্তি, সমাজ ও পারিবারিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব যেমন ভয়াবহ, তেমনি আখিরাতেও এর জন্য কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তা এসেছে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে অপবাদ, গুজব ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে অনেকেই অন্যের বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করছেন, যা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।
আরবি ভাষায় অপবাদকে বলা হয় ‘বুহতান’। অর্থাৎ কারও বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ তোলা, যা বাস্তবে সত্য নয়। যেমন-কেউ চুরি না করলেও তাকে চোর বলা, অথবা নির্দোষ কাউকে অসৎ বলে আখ্যায়িত করা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।”-(সূরা আহযাব: ৫৮)
অন্য আয়াতে এসেছে, “যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ও ইমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।”-(সূরা নূর: ২৩)
হাদিসেও অপবাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দেয়, যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের পঙ্কিল স্থানে রাখবেন, যতক্ষণ না সে তার কথার পরিণতি থেকে মুক্ত হয়।”-(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৯৭)
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, অপবাদের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য শুধু তওবা যথেষ্ট নয়; বরং যার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেও ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কেয়ামতের দিন মজলুম ব্যক্তিকে অপবাদদাতার নেক আমল থেকে প্রতিদান দেওয়া হবে।
তাই ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও নৈতিকতা বজায় রাখতে অপবাদ, গুজব ও মিথ্যা প্রচার থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
জ/উ