![]() |

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মিনায় এখন ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে তাঁবুর শহর মিনা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা লাখো মুসল্লির সঙ্গে বাংলাদেশি হাজিরাও মিনায় অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশি হাজিদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি মিনার বিভিন্ন তাঁবু ঘুরে হাজিদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের দেখভালের জন্য প্রতিনিধি দলও নিয়োগ করা হয়েছে।
হাজিদের তাঁবুগুলোতে চলছে দোয়া, ধর্মীয় আলোচনা ও হজের বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে পরামর্শ। এ ছাড়া ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিনায় থাকা বাংলাদেশি হাজিদের মাঝে পাঁচ হাজার প্যাকেট উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার রাত থেকেই হাজিরা মিনার পথে যাত্রা শুরু করেন। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মিনায় অবস্থান করে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এরপর মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা।
হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত আরাফাতের অবস্থান। সেখানে খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এ বছরের হজের খুতবা প্রদান করবেন শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থানের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন হাজিরা। পরদিন সকালে মিনায় ফিরে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে পশু কুরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন তারা।
এদিকে অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যাতে হজ পালন করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সৌদি প্রশাসন। মিনায় প্রবেশপথে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং প্রত্যেক হাজির জন্য ‘নুসুক’ কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তীব্র তাপদাহের কারণে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাজিদের তাঁবুর ভেতরে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ছাতা ব্যবহার এবং বেশি বেশি পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
জ/দি
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |