প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকার আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) প্রাপ্তিতে জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে অনেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
জ/উ