প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারের নবীনগর টু কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুপাশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা কয়েক শতাদিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সোমবার (০৬ জুলাই) সকাল ৯ টা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযানে শক্তিশালী ভেকু দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ কয়েক শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এতে টানা সাত ঘণ্টার অভিযানে রাস্তার দুপাশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এল. এ শাখা) মানস চন্দ্র দাস।ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজনই ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাদের পুনর্বাসনের সময় দেওয়া হয়নি। বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আচমকা এ অভিযানে তাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়।
বাঙ্গরা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শামীম মিয়া অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করে তাদের পাশে থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। এসময় সড়ক ও জনপদ বিভাগে কর্মরত হিরন মিয়া জানান, দোকানগুলো সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্বে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার নোটিশ ও মাইকিং করে এসব অবৈধ দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও সেটি মানা হয়নি। ফলে বিধি অনুযায়ী এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরো জানান, আগামীতে এই বাজারের মধ্য দিয়ে ফোরলেনের রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ফলে আমাদের জায়গাগুলো দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হয়ে পড়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেক্রমে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানে নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস এব্যাপারে ক্যামেরার সামনে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, এই বাজারটি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থান ছিল না বরং এটি উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল। এই বাজার উচ্ছেদের ফলে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মী বেকার হয়ে পড়েছে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।