বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ব্যক্তিগত যাতায়াত, ব্যবসায়িক কাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মেকানিকের অভাবে খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক গ্যারেজে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়াই মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। আধুনিক মোটরসাইকেলের প্রযুক্তিগত জটিলতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ত্রুটি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ছোট সমস্যা বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিতে রূপ নিচ্ছে এবং গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, অনেক সময় প্রকৃত সমস্যা নির্ণয় না করে একাধিক যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায় না। কখনও ভুল মেরামতের কারণে ইঞ্জিন, ব্রেকিং সিস্টেম বা বৈদ্যুতিক সংযোগে নতুন সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
খুলনার এক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী বলেন, একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক সমস্যা নিয়ে স্থানীয় একটি গ্যারেজে গেলে কয়েকটি যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়। পরে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে পরীক্ষা করে জানা যায়, ভুল মেরামতের কারণে আরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে তাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ের মোটরসাইকেলে ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকশন (EFI), ইসিইউ (ECU), সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি সঠিকভাবে মেরামতের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারিগরি দক্ষতা। দক্ষতা ছাড়া মেরামতের চেষ্টা মোটরসাইকেলের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এদিকে মোটরযান মেরামত কারখানার লাইসেন্সিং ও মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
খুলনা বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোটরযান মেরামত কারখানা পরিচালনা করতে পারবে না। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিআরটিএ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং এর সুফল গ্রাহকরা শিগগিরই পাবেন।
তিনি আরও বলেন, মোটরযান মেরামতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শহরের অভিজ্ঞ মোটরসাইকেল চালক শেখ রাজা বলেন, বর্তমানে গ্যারেজের সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ মেকানিকের অভাব রয়েছে। ফলে অনেক গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
অন্যদিকে মোটরসাইকেল মেকানিক ইব্রাহিম বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ মেকানিক এ পেশায় যুক্ত হলে গ্রাহকরা আরও ভালো সেবা পাবেন। একই সঙ্গে পেশাটির মান ও দক্ষ জনবলের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।
সচেতন মহলের মতে, গ্যারেজ ও সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এ খাতে শৃঙ্খলা ও মান উন্নয়ন সম্ভব। এতে গ্রাহকরা নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন এবং সড়ক নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।
জ/দি