প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২:১৬ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে চাপ বেড়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৫.৫১ ডলারে নেমে আসে। এতে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে ইসরাইলের অনীহার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টাও ধাক্কার মুখে পড়েছে।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ইরান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা স্বর্ণের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫১ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৩৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮০.৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৮.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহে প্রায় সব মূল্যবান ধাতুই লোকসানের মুখে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স