
দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এরই অংশ হিসেবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ব্র্যাক অফিসে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধানবীজ, গবাদিপশু ও বৃক্ষচারা বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় নাজিরপুর ব্র্যাক অফিস পরিদর্শন করেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। এ সময় তিনি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ৪০ জন সদস্যের মাঝে দুই কেজি করে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ‘রাজা ধান-১৮’ ধানবীজ বিতরণ করেন। একইসঙ্গে ব্র্যাকের আল্ট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচির আওতায় তিনজন সদস্যকে গরু এবং একজন সদস্যকে দুটি ছাগল প্রদান করা হয়।
সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছিলেন দেবত্তর গড়িলা গ্রামের রুবিয়া, বৃকাশো এলাকার মহেলা খাতুন, আখি খাতুন, জেসমিন ও সুমাইয়া এবং ডুবারপাড়া গ্রামের তফেজানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছরে নাজিরপুর শাখার ইউপিজি কর্মসূচির আওতায় ৩১০ জন সদস্যের মাঝে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল সম্পদ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আড়ংয়ের অর্থায়নে প্রত্যেক সদস্যকে তিনটি করে বৃক্ষচারা প্রদান করা হচ্ছে। এসব সহায়তা সদস্যদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ ব্র্যাকের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে ব্র্যাকের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উৎপাদনশীল সম্পদভিত্তিক সহায়তা মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের নিজস্ব আয় সৃষ্টির পথ তৈরি করে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও বাল্যবিবাহের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বক্তব্য দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মো. হাসিবুল ইসলাম, দাবি কর্মসূচির শাখা ব্যবস্থাপক মো. রুস্তম আলী, এনসিডিপি কর্মসূচির শাখা ব্যবস্থাপক মো. তাহাজ্জুদ হোসেন এবং ইউপিজি কর্মসূচির শাখা ব্যবস্থাপক মো. সেলিম হোসেন।
বক্তারা বলেন, নাটোর জেলাজুড়ে ব্র্যাকের দারিদ্র্য নিরসন, জীবিকায়ন, কৃষি উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
জ/দি