প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম

হজ ফেরত যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, তদন্তে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো ধরনের চুরি বা অনিয়মের তথ্য মেলেনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ হজ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিকভাবে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বডি-ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আনা ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে যাত্রীরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের চুরি বা অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি, সঠিকভাবে সিল না করা প্রসাধনী সামগ্রী, ঘোষণাবিহীন নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বহন করা নিষিদ্ধ। স্ক্রিনিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে আন্তর্জাতিক বিধি অনুসারে লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করার ক্ষমতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) যাত্রীদের মালামাল নিরাপদে পৌঁছে দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকা বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজ খানমও ফোনে ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জ/উ