
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় আমরা দাম বাড়াইনি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের বিতর্ক থাকতে পারে; তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দেশের স্বার্থে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র কিন্তু এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক-২০২৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবার প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার। এটি সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের অবদান প্রেরণার উৎস হবে। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান এবং সফল কর্মগুলো অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বদরবারেও সমাদৃত হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
তারেক রহমান বলেন, অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। সেই দেশটি এখন ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে। এত বছরে আমাদের যেমন অনেক প্রাপ্তি রয়েছে, অপ্রাপ্তিও কম নয়। তাই আমাদের প্রত্যাশিত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ প্রতিহিংসা কিংবা অযথা বিতর্ক নয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলতেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা’। সেই কথা স্মরণ রেখেই বলতে চাই, আমাদের মত-পথ ভিন্ন হতে পারে, বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দেশের স্বার্থে আমাদের সবার সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছি।
নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনও উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আমরা ইতোমধ্যে জনগণের সামনে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি, পুঁথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি। বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা সুযোগ পেয়েছে, বারবার এর প্রমাণ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও বর্তমান সরকার দাম বাড়ায়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের সুবিধা নিশ্চিত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আমি আস্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্য বর্জন, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করতে আমি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।