রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র শরিয়াহকে প্রাধান্য দেয়া হবে : সৈয়দ রেজাউল করীম
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম

শরিয়াহকে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র প্রাধান্য দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণে একথা বলেন তিনি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) আগে ধারণ করা রেজাউল করীমের ভাষণ সম্প্রচার করে।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানেও তিনি রাষ্ট্রপরিচালনার সর্বত্র শরিয়াহকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে চরমোনাই পীর মহান স্বাধীনতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন করবে।

আরও পড়ুন : জামায়াত বোরকা বানাচ্ছে বলে নাটক করছে বিএনপি : জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান-মর্যাদা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।

ভাষণে রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলনের নীতিগত পরিকল্পনা, রাষ্ট্র সংস্কারে কর্মপদ্ধতি, বিশেষ কর্মসূচি ও খাতওয়ারি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন চরমোনাই পীর। ভোট প্রদানে ইসলামের নীতি ও অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।

রেজাউল করীম বলেন, প্রতিষ্ঠাকালে আমাদের দলের নাম ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। কারণ সেই ১৯৮৭ সালেই আমাদের অনুধাবনে এটা ছিল– যে সংবিধানে দেশ চলছে, তা এই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বোধ-বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত, সংবিধানই প্রধান সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন : একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে : মাহদী আমিন

তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল দুটি। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং ভুল নেতা বাছাই করা।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাঙ্ক্ষিতমানে নিয়ে যেতে পারেনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শরিয়াহ কেবলই একটি আইনের নাম নয়। বরং শরিয়াহ হলো, মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসেবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে, অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ খুঁজে পাবে।

ভাষণে রেজাউল করীম ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহার ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’র উল্লেখ করে জানান, তাদের ইশতেহারে জনপ্রত্যাশা হিসেবে শরিয়াহর প্রাধান্য, জুলাই সনদের প্রতি দায়বদ্ধতা, তারুণ্যের কর্মসংস্থান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিক সেবা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে থাকা রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ভাষণে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপরিচালনার সব ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন ছাড়াও ‘ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারণ’,‘সব ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর অধিকার-সম্মান রক্ষায় প্রতিশ্রুতি’,‘পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতামূলক বৈদেশিক সম্পর্কের’কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহার জাতির সঙ্গে একটি প্রতিজ্ঞা। আপনাদের সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft