প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ পিএম

সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি ও অতিরিক্ত পর্যটক চাপ বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে টানা নয় মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ফলে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে দ্বীপে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচল করবে না।
সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি ও অতিরিক্ত পর্যটক চাপ বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবারই শেষবারের মতো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপে যায়। রোববার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তবে সরকার ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ হওয়ায় এখানে সামান্য পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতাও দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে পর্যটন বন্ধের এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা গেছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এবার বিনিয়োগের টাকা তুলতেই পারেননি। বেশিরভাগই লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। পর্যটক বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক মাস মানুষের কষ্ট বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জ/ই