
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শতবর্ষী শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতি একটি নতুন নারী ক্ষমতায়নের গল্প হিসেবে সামনে এসেছে। বিনামূল্যে বিতরণকৃত সাইকেলের মাধ্যমে তারা শুধুমাত্র স্কুলে যাচ্ছে না বরং নিজেদের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও শিক্ষা অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
রসুল্লাবাদ গ্রামের অষ্টম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার আগে তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতেন। সময়সীমার কারণে ক্লাসে উপস্থিত থাকা মুশকিল ছিল তার, অনুপস্থিতিও নিয়মিত হয়ে যেত। সাইকেল পাওয়ার পর সব বদলে গেছে নাহিদার।
এখন প্রায় ১০০ ছাত্রী প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে শান্তিপুর, নাছিরাবাদ, নোয়াগ্রাম, শ্রীঘর, রসুল্লাবাদ, বানিয়াচং ও কুড়িনালসহ আশপাশের গ্রাম থেকে স্কুলে আসছে। এটি শুধু স্কুলে উপস্থিতির বৃদ্ধি নয়, মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, সময় ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকেও দৃঢ় করেছে।
অধ্যক্ষ মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, গ্রামের মেয়েরা এখন আরও এগিয়ে। তারা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। এতে সময় নষ্ট হয় না, নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। আমরা তাদের জন্য সাইকেলস্ট্যান্ড নির্মাণ করেছি। কেউ কটূক্তি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নবম শ্রেণির রাশিদা আক্তার জানান, হেঁটে আসতে অনেক সময় লাগত। এখন সাইকেল চালিয়ে তাড়াতাড়ি আসতে পারি। টিফিন খেয়ে আবার ক্লাসে ফিরি।
পল্লী চিকিৎসক আক্কাছ মিয়া বলেন, কিছু মানুষ ভালো চোখে না দেখলেও আমি মেয়েকে উৎসাহ দিই। এখন সে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়টির ২,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ছাত্রী এবং এই উদ্যোগ মেয়েদের শিক্ষা অধিকার, সমতা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের এক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। যখন নিরাপদ যাতায়াত ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা হয়, তখন মেয়েরা শুধু বিদ্যালয়ে আসে না, বরং সামাজিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বগুণ ও স্বাধীন চিন্তাধারার পরিচয়ও বহন করে।
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ক্ষুদ্র উদ্যোগও গ্রামীণ মেয়েদের জীবনে শিক্ষার অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নের পথে বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে।
জ/উ