প্রকাশ: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:২১ পিএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী আজ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম গত ৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিবালয় থানা পুলিশের ফোন পেয়ে তিনি ও তার বড় ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম থানায় যান। সেখানে শিবালয় থানার ওসি তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে থানার ওসির বিরুদ্ধে।
এর আগে, গত ৬ই সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলামের বড় ভাইয়ের স্ত্রী সালমা বেগম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই রফিকুলের উপর থানায় চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম হুমকি ও হয়রানির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরদিন সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের বরাবর শিবালয় থানা ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় মাতব্বর এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আইয়ুব তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে থানায় ডেকে নেওয়ার আগে থানা থেকে আমার মাধ্যমে রফিকুল ইসলামকে উচ্ছেদের কথা বলেন। আমি রফিকুল ইসলামকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে রফিকুল আমাকে ঘরের চাবি দিয়ে দেন। কিন্তু ওই বাড়িতে রফিকুলের বোনরাও অবস্থানরত ছিল তাদেরকে উচ্ছেদের কথা বলেন কিন্তু আমি রাজি না হওয়াতে, ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলামকে থানায ডেকে নেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের বোন সালমা বেগমের ছেলে তালা খুলে ঘরে ঢুকে এবং আলমারি থেকে কাপড় গুলো এলোমেলো ভাবে রেখে চলে যায় এবং পরে পুলিশ আসে।
এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগকারী সালমা বেগমের দায়ের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে ফাসানোর চক্রান্ত।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে আরো বলেন, থানায় সাধারণ মানুষের সাথে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তারা পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও শিবালয় থানার বর্তমান ওসির পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে শিবালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন জবাবদিহিকে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর জামি সংক্রান্ত বিষয়ে সালমা আক্তার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পর দিন ৮সেপ্টম্বর এসআই নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সতত্যা পেয়ে অভিযুক্ত রফিকুলকে থানায় আসতে বললে সে সন্ধ্যায় থানায় আসেন। রাতে অভিযোগকারীসহ স্থানীয় জামাতের দুই নেতা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করবেন বলে আমাকে জানিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
এছাড়া, পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি।