প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

গাজীপুর মহানগরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে পোশাককর্মী শান্তা বেগমের (২৬) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আদালতে হাজির করার পর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে সাইফুল ও শান্তা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে ওঠেন। ওই রাতেই কক্ষ থেকে শান্তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সাইফুল আত্মগোপনে ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন ইউনিট ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের বাবা বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, নিবন্ধন খাতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে শান্তা ও সাইফুলের বিয়ে হয়। তবে উভয়ের আগের সংসার, সন্তান ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সেই বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তাকে হত্যা করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। পরে তিনি নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
জ/উ