প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ পিএম

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রফতানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিমালা আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রফতানি আয়ের অর্থ দেশে আনতে এখন আর সব ক্ষেত্রে প্রচলিত কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে না; ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণই গ্রহণযোগ্য হবে।
গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের হিসাব বিবরণী, ই-মেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সেবা রফতানির প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক আয় জমা করতে পারবে। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিতে পারবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা বাড়াতে ব্যাংকগুলো এখন দ্বৈত মুদ্রার (ডুয়াল কারেন্সি) কার্ড ইস্যু করতে পারবে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা এখন তাদের রফতানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, অন্যান্য সেবা রফতানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ আনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রফতানির স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জ/উ